আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল দিক পরিবর্তন করেছে। এতে তৈরি হয়েছে নতুন হুমকি। শনিবার প্যালেসেইডসের দাবানলটি দিক পরিবর্তন করে উত্তর-পূবের দিকে জ্বলছে। আশপাশ এলাকার বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়। এ পর্যন্ত দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। অন্যদিকে, তুষারঝড়ে স্থবির হয়ে আছে দেশটির মধ্যাঞ্চল।

ইতিহাসের ভয়াবহতম দাবানলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে আমেরিকার বিলাসবহুল আধুনিক শহর হিসেবে খ্যাত ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস। বহু মানুষের স্বপ্নের শহর পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে। তবে এখনো কমেনি দাবানলের ভয়াবহতা। আবারও বাড়তে শুরু করেছে বাতাসের তীব্রতা ও আগুণ।

পশ্চিমে জ্বলতে থাকা প্যালেসেইডসের দাবানলটি দিক পরিবর্তন করায় আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়েছে। দাবানলটি উত্তর-পূর্বে ম্যান্ডেভিলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ অবস্থায় ঘর ছাড়তে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে আরও ১ লাখ ৬৬ হাজার বাসিন্দাকে। দাবানল দিক পরিবর্তন করায় নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এর প্রধান কারণ হিসেবে ‘সান্তা অ্যানা’ নামের ঝোড়ো বাতাসকে দায়ী করছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। আগামী বুধবার পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

আকাশ থেকে ছিটানো হচ্ছে পানি ও অগ্নি নির্বাপক রাসায়নিক। সবচেয়ে বড় দাবানলের কবলে থাকা প্যালিসেডে পুড়েছে আরও ১ হাজার একর এলাকা। ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনকে সহায়তায় প্রতিবেশী ৭টি রাজ্য, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে পাঠানো হয়েছে বিশেষ টিম।

এদিকে দেশের আরেক প্রান্তে হচ্ছে তুষারপাত। তুষারঝড়ে স্থবির আমেরিকার মধ্যাঞ্চল। তীব্র শীতল ঝড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে ২০টির বেশি রাজ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ক্যারোলিনার কিছু অংশে প্রায় ১১ সেন্টিমিটার তুষারপাত হয়েছে। এছাড়া মধ্য টেনেসির কিছু অংশে অন্তত ১৫ সেন্টিমিটার তুষার পড়েছে। এর কারণে উত্তর ক্যারোলাইনার বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত জর্জিয়ার আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ফ্লাইট। তুষারপাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখেছে ভার্জিনিয়া ও জর্জিয়ার বাসিন্দারা। বন্ধ রাখা হয়েছে এসব রাজ্যের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

অন্যদিকে, ভারী তুষারপাতের কারণে ভারতের সিকিমে ঢেকে গেছে একাধিক রাস্তা। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র নাথু লা পাস এবং সোমগো লেকের রাস্তা যানবাহন চলাচলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তাই বন্ধ রাখা হয়েছে একাধিক পর্যটন কেন্দ্র।